...

হিমোফিলিয়ার প্রকারভেদ

হিমোফিলিয়ার প্রকারভেদ (Types of Hemophilia)

হিমোফিলিয়াকে মূলত কোন ক্লটিং ফ্যাক্টরের অভাবের কারণে রোগটি হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। এছাড়াও, রোগের তীব্রতার উপর ভিত্তি করেও এর প্রকারভেদ করা হয়।

প্রধান প্রকারভেদ (Based on Missing Clotting Factor):

১) হিমোফিলিয়া A (Hemophilia A):

ক) এটি সবচেয়ে সাধারণ প্রকার (প্রায় ৮০-৮৫% হিমোফিলিয়া রোগী)।

খ) এটি ফ্যাক্টর VIII (আট) নামক ক্লটিং ফ্যাক্টরের অভাবের কারণে হয়।

গ) এটি “ক্লাসিক হিমোফিলিয়া” বা “ফ্যাক্টর VIII ডেফিসিয়েন্সি” নামেও পরিচিত।

২) হিমোফিলিয়া B (Hemophilia B):

ক) এটি দ্বিতীয় সবচেয়ে সাধারণ প্রকার (প্রায় ১৫% হিমোফিলিয়া রোগী)।

খ) এটি ফ্যাক্টর IX (নয়) নামক ক্লটিং ফ্যাক্টরের অভাবের কারণে হয়।

গ) এটিকে “ক্রিসমাস ডিজিজ” বা “ফ্যাক্টর IX ডেফিসিয়েন্সি”ও বলা হয়।

৩) হিমোফিলিয়া C (Hemophilia C):

ক) এটি একটি বিরল প্রকার।

খ) এটি ফ্যাক্টর XI (এগারো) নামক ক্লটিং ফ্যাক্টরের অভাবের কারণে হয়।

গ) হিমোফিলিয়া A এবং B এক্স-লিঙ্কড (পুরুষদের বেশি হয়) হলেও, হিমোফিলিয়া C একটি অটোজোমাল রিসেসিভ রোগ, অর্থাৎ এটি পুরুষ ও মহিলা উভয়কে সমানভাবে আক্রান্ত করতে পারে। এর লক্ষণগুলো সাধারণত হিমোফিলিয়া A বা B এর চেয়ে হালকা হয় এবং স্বতঃস্ফূর্ত রক্তপাত খুব কম দেখা যায়।

২. তীব্রতার উপর ভিত্তি করে প্রকারভেদ (Based on Severity):

রোগীর রক্তে ক্লটিং ফ্যাক্টরের মাত্রার উপর ভিত্তি করে হিমোফিলিয়াকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়

১) গুরুতর হিমোফিলিয়া (Severe Hemophilia):

ক) রক্তে ক্লটিং ফ্যাক্টর VIII বা IX এর মাত্রা স্বাভাবিকের ১% এরও কম।

ক) এই রোগীদের কোনো আঘাত ছাড়াই ঘন ঘন এবং স্বতঃস্ফূর্ত রক্তপাত হয়, বিশেষ করে জয়েন্ট ও পেশীতে।

২) মাঝারি হিমোফিলিয়া (Moderate Hemophilia):

ক) রক্তে ক্লটিং ফ্যাক্টর VIII বা IX এর মাত্রা স্বাভাবিকের ১% থেকে ৫% এর মধ্যে।

খ) এই রোগীদের সাধারণত গুরুতর আঘাত বা অস্ত্রোপচারের পর রক্তপাত হয়, তবে স্বতঃস্ফূর্ত রক্তপাতও হতে পারে, যদিও তা গুরুতর হিমোফিলিয়ার মতো ঘন ঘন নয়।

৩) হালকা হিমোফিলিয়া (Mild Hemophilia):

ক) রক্তে ক্লটিং ফ্যাক্টর VIII বা IX এর মাত্রা স্বাভাবিকের ৫% থেকে ৪০% এর মধ্যে।

খ) এই রোগীদের সাধারণত গুরুতর রক্তপাত হয় না, শুধুমাত্র বড় আঘাত, অস্ত্রোপচার বা দাঁত তোলার মতো বড় ঘটনার পর রক্তপাত দেখা যায়। অনেক সময় রোগটি দেরিতে ধরা পড়ে, এমনকি প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায়ও।

৪) অর্জিত হিমোফিলিয়া (Acquired Hemophilia):

এটি একটি বিরল প্রকার যা বংশগত নয়। এক্ষেত্রে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত তার নিজস্ব ক্লটিং ফ্যাক্টরগুলোকে (সাধারণত ফ্যাক্টর VIII) আক্রমণ করে এবং ধ্বংস করে ফেলে। এটি সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দেখা যায় এবং ক্যান্সার, অটোইমিউন রোগ, গর্ভাবস্থা বা নির্দিষ্ট কিছু ঔষধের প্রতিক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।

 

Scroll to Top
Seraphinite AcceleratorOptimized by Seraphinite Accelerator
Turns on site high speed to be attractive for people and search engines.