মৃগীরোগ বা খিঁচুনি (Epilepsy / Seizures) মূলত মস্তিষ্কের স্নায়ুকোশের (Neurons) অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের কারণে ঘটে থাকে। আন্তর্জাতিক মৃগীরোগ বিরোধী লীগ (ILAE)-এর চিকিৎসা সম্পর্কিত শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী খিঁচুনি বা মৃগীরোগকে প্রধানত তিনটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়:
এই ধরনের খিঁচুনি মস্তিষ্কের কোনো একটি নির্দিষ্ট অংশে বা একপাশে
উৎপন্ন হয়। এটি আবার দুই প্রকার:
(ক) ফোকাল অ্যাওয়ারনেস সিজার (Focal Aware Seizure / Simple Partial): এতে
রোগী পুরোপুরি সচেতন থাকেন। তিনি শরীরে অদ্ভুত অনুভূতি, অস্বাভাবিক গন্ধ/স্বাদ পেতে পারেন বা শরীরের একটি
নির্দিষ্ট অংশ (যেমন- হাত বা পা) হঠাৎ কেঁপে উঠতে পারে।
(খ) ফোকাল ইম্পেয়ার্ড অ্যাওয়ারনেস সিজার (Focal Impaired Awareness / Complex Partial)
: এতে রোগীর সচেতনতা কমে যায় বা তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। রোগী স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে পারেন,
বা বারবার ঠোঁট চাটা, হাত কচলানো বা এক জায়গায় ঘুরতে থাকার মতো অস্বাভাবিক আচরণ (Automatism) করতে পারেন।
এই ধরনের খিঁচুনি মস্তিষ্কের উভয় পাশেই একযোগে শুরু হয় এবং সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এর বেশ কয়েকটি উপপ্রকার রয়েছে:
(ক) টনিক-ক্লোনিক (Tonic-Clonic / Grand Mal): সবচেয়ে সাধারণ রূপ।
শরীর হঠাৎ শক্ত হয়ে যায় (টনিক পর্ব) এবং তারপর হাত-পা প্রচণ্ডভাবে কাঁপতে থাকে (ক্লোনিক পর্ব)। মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়া বা
জিব কেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
(খ) অ্যাবসেন্স সিজার (Absence Seizure / Petit Mal): সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। শিশু হঠাৎ
কয়েক সেকেন্ডের জন্য এক দৃষ্টিতে শূন্যে তাকিয়ে থাকে এবং পরে স্বাভাবিক কাজ শুরু করে।
(গ) অ্যাটোনিক সিজার (Atonic Seizure / Drop Attack): পেশির শক্তি হঠাৎ সম্পূর্ণ লোপ পায়, ফলে ব্যক্তি
হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান।
(ঘ) মাইওক্লোনিক সিজার (Myoclonic Seizure): শরীরের নির্দিষ্ট পেশি বা পেশিগুচ্ছ হঠাৎ ঝাটকা (Jerk) দিয়ে
ওঠে, যেমন হাত থেকে হঠাৎ কিছু পড়ে যাওয়া।
(ঙ) টনিক সিজার (Tonic Seizure): শরীরের পেশিগুলো (বিশেষ করে পিঠ, হাত ও পা) হঠাৎ শক্ত হয়ে যায়।
(চ) ক্লোনিক সিজার (Clonic Seizure): শরীরের পেশিগুলোতে বারবার ছন্দময় ঝাকুনি বা খিঁচুনি হতে থাকে।
যখন খিঁচুনির সূচনা পর্ব মস্তিষ্কের ঠিক কোন অংশ থেকে শুরু হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায় না (যেমন: রাতে ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি হওয়া এবং কেউ প্রত্যক্ষ না করা), তখন তাকে এই শ্রেণীতে রাখা হয়। পরবর্তীতে EEG বা MRI পরীক্ষার মাধ্যমে এটি ফোকাল নাকি জেনারালাইজড তা নির্ধারণ করা হয়।