...

HBsAg রোগ কি

হেপাটাইটিস কি?

HBsAg কোনো রোগ নয়, এটি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের (Hepatitis B Virus – HBV) সারফেস অ্যান্টিজেন (Surface Antigen)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। সহজ ভাষায়, এটি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের বাইরের আবরণ বা খামের একটি প্রোটিন। যখন কোনো ব্যক্তির রক্তে HBsAg পাওয়া যায়, তখন এর অর্থ হলো সেই ব্যক্তি বর্তমানে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত। এটি সক্রিয় হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের একটি নিশ্চিত চিহ্ন। HBsAg রক্তে তীব্র (Acute) এবং দীর্ঘস্থায়ী (Chronic) উভয় সংক্রমণের সময়ই সনাক্ত করা যেতে পারে।

HBsAg পজিটিভ হওয়ার অর্থ কী?

সক্রিয় সংক্রমণ: আপনি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত।

সংক্রামক: আপনার শরীর থেকে এই ভাইরাস অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি রক্ত, শরীরের তরল (যেমন বীর্য, যোনি তরল, লালা) এবং দূষিত সূঁচের মাধ্যমে ছড়ায়।

আরও পরীক্ষার প্রয়োজন: HBsAg পজিটিভ হলে সাধারণত আরও কিছু পরীক্ষা করা হয়, যেমন:

ক) HBeAg (Hepatitis B e-antigen): এটি ভাইরাসের প্রতিলিপিকরণের মাত্রা নির্দেশ করে এবং এটি পজিটিভ হলে বোঝা যায় ভাইরাস সক্রিয়ভাবে বংশবৃদ্ধি করছে এবং সংক্রামকতার মাত্রা বেশি।

খ) Anti-HBs (Hepatitis B surface antibody): এটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে কিনা তা নির্দেশ করে। যদি Anti-HBs পজিটিভ হয় এবং HBsAg নেগেটিভ হয়, তাহলে বোঝা যায় ব্যক্তি হয় হেপাটাইটিস বি থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে অথবা টিকা গ্রহণের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করেছে।

গ) Anti-HBc (Hepatitis B core antibody): এটি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের অভ্যন্তরীণ অংশের বিরুদ্ধে তৈরি অ্যান্টিবডি। এর উপস্থিতি অতীত বা বর্তমান সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।

ঘ) HBV DNA (Hepatitis B virus DNA): এটি রক্তে ভাইরাসের পরিমাণ পরিমাপ করে এবং রোগের সক্রিয়তা ও চিকিৎসার কার্যকারিতা মূল্যায়নে সাহায্য করে।

ঙ) লিভার ফাংশন টেস্ট (LFTs): লিভারের ক্ষতির মাত্রা বোঝার জন্য এই পরীক্ষাগুলো করা হয়।

হেপাটাইটিস বি রোগ সম্পর্কে কিছু তথ্য:

হেপাটাইটিস বি হলো হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) দ্বারা সৃষ্ট একটি লিভারের প্রদাহজনিত রোগ। এই ভাইরাস লিভারকে আক্রমণ করে এবং গুরুতর ক্ষতি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত লিভার সিরোসিস (লিভারের স্থায়ী ক্ষতি), লিভার ক্যান্সার এবং এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

সংক্রমণের উপায়:

ক) সংক্রমিত রক্ত বা শরীরের তরলের সংস্পর্শে আসা।

খ) অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক।

গ) একই সূঁচ বা সিরিঞ্জ ভাগ করে নেওয়া (যেমন মাদকাসক্তদের মধ্যে)।

ঘ) HBV আক্রান্ত মা থেকে শিশুর জন্মকালীন সংক্রমণ।

ঙ) আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র (যেমন রেজর, টুথব্রাশ) ভাগ করে নেওয়া।

লক্ষণ:

অনেক সময় হেপাটাইটিস বি সংক্রমিত ব্যক্তির কোনো লক্ষণ দেখা যায় না, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে কিছু ক্ষেত্রে যে লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে:

ক) ক্লান্তি ও দুর্বলতা

খ) জ্বর

গ) ক্ষুধামন্দা

ঘ) বমি বমি ভাব বা বমি

ঙ) পেটে ব্যথা (বিশেষত উপরের ডানদিকে, যেখানে লিভার থাকে)

চ) গাঢ় প্রস্রাব

ছ) ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

জ) জয়েন্টে ব্যথা

প্রতিরোধ চিকিৎসা:

১) টিকা: হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ।

২) সচেতনতা: সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৩) চিকিৎসা: দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি-এর জন্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ পাওয়া যায় যা ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং লিভারের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

যদি HBsAg পরীক্ষা পজিটিভ আসে, ঘাবড়ে না গিয়ে অবিলম্বে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা হেপাটোলজিস্ট) সাথে পরামর্শ করুন। তিনি পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা দেবেন।

Scroll to Top
Seraphinite AcceleratorOptimized by Seraphinite Accelerator
Turns on site high speed to be attractive for people and search engines.