হিমোফিলিয়া একটি বংশগত রক্তপাতজনিত রোগ, যা রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন (ক্লটিং ফ্যাক্টর) এর অভাব বা ত্রুটির কারণে হয়। এর উপসর্গগুলো রোগের তীব্রতার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয় এবং এর চিকিৎসার ধরন ও নির্দেশনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হিমোফিলিয়ার উপসর্গ রোগের তীব্রতার উপর নির্ভর করে হালকা, মাঝারি বা গুরুতর হতে পারে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচ হাজার ছেলেশিশুর মধ্যে একজন হিমোফিলিয়া নিয়ে জন্ম নেয়। বর্তমানে সারা বিশ্বে চার লাখ লোক এ রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ উপযুক্ত চিকিৎসা পাচ্ছে। আর বাকিরা অসচেতনতা বা সময়মত পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে। সাধারণ উপসর্গগুলো হলো-
(ক) ছোট্ট কাট, স্ক্র্যাচ বা ইনজেকশনের পরেও রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না।
(খ) দাঁত তোলার পর বা ছোট অপারেশনের পর অনিয়ন্ত্রিত রক্তপাত।
(গ) নাক বা মাড়ি থেকে ঘন ঘন রক্তপাত।
(ক) সামান্য আঘাতে বা এমনকি কোনো কারণ ছাড়াই ত্বকের নিচে রক্ত জমাট বেঁধে কালশিটে পড়তে পারে।
(ক) এটি হিমোফিলিয়ার সবচেয়ে গুরুতর এবং সাধারণ জটিলতা। রক্ত সাধারণত হাঁটু, কনুই, গোড়ালি
এবং কাঁধের মতো বড় জয়েন্টগুলোতে জমা হয়।
(খ) উপসর্গ: ব্যথা, ফোলা, উষ্ণতা, জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া এবং জয়েন্টের নড়াচড়ার সীমাবদ্ধতা।
(গ) বারবার জয়েন্টে রক্তপাত হলে জয়েন্টের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা এবং অক্ষমতার কারণ হয়।
(ক) পেশীর গভীরে রক্তপাত (হেমাটোমা) হলে ব্যথা, ফোলা এবং অসাড়তা হতে পারে।
(খ) গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুর উপর চাপ পড়লে স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে।
(ক) মস্তিষ্কে রক্তপাত (Intracranial Hemorrhage): এটি একটি জীবন-হুমকির কারণ।
উপসর্গগুলোর মধ্যে তীব্র মাথাব্যথা, বমি, ঘুমঘুম ভাব, খিঁচুনি বা চেতনা হারানো থাকতে পারে।
(খ) পাকস্থলী বা অন্ত্রে রক্তপাত: মল বা মূত্রের সাথে রক্ত দেখা যেতে পারে।
(ক) শিশুদের মধ্যে হামাগুড়ি দেওয়া বা হাঁটতে শেখার সময় জয়েন্টে রক্তপাত।
(খ) ছোট শিশুদের মধ্যে টিকা দেওয়ার পর ইনজেকশন সাইটে অতিরিক্ত রক্তপাত।