+8801716-768210    info@azadhomoeohall.com

হাই প্রেসার রোগের ধরন কি কি

হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ মূলত দুই প্রকারের হয়:


১। প্রাথমিক (বা অপরিহার্য) উচ্চ রক্তচাপ (Primary or Essential Hypertension):

এটি উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে সাধারণ প্রকার। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। এই ধরনের উচ্চ রক্তচাপ সাধারণত অনেক বছর ধরে ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে এবং এর সাথে জীবনযাত্রার বিভিন্ন কারণ (যেমন - অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, স্থূলতা, ধূমপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা) এবং জেনেটিক প্রবণতা জড়িত থাকে।

২। মাধ্যমিক উচ্চ রক্তচাপ (Secondary Hypertension):

এই ধরনের উচ্চ রক্তচাপ কোনো নির্দিষ্ট অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যা বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে হয়। প্রাথমিক উচ্চ রক্তচাপের তুলনায় এটি হঠাৎ করে দেখা দেয় এবং প্রায়শই রক্তচাপ অনেক বেশি হয়ে থাকে। মাধ্যমিক উচ্চ রক্তচাপের কিছু সাধারণ কারণ হলো:
(ক) কিডনি সমস্যা: কিডনির রোগ বা কিডনিতে রক্তনালীর সংকীর্ণতা (renal artery stenosis) উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে।
(খ) থাইরয়েড সমস্যা: হাইপারথাইরয়েডিজম (অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন) উচ্চ রক্তচাপ বাড়াতে পারে।
(গ) অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি টিউমার: অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণ (যেমন - অ্যালডোস্টেরন, কর্টিসল) উচ্চ রক্তচাপ ঘটাতে পারে।
(ঘ) অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া: ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা (Obstructive Sleep Apnea) উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়।
(ঙ) নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ: কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, সর্দি-কাশির ওষুধ, কিছু ব্যথানাশক এবং কিছু অবৈধ ড্রাগ উচ্চ রক্তচাপ ঘটাতে পারে।
(চ) কিছু জন্মগত হৃদরোগ: যেমন মহাধমনীর সংকীর্ণতা (coarctation of the aorta)। এছাড়াও, আরও কিছু বিশেষ ধরনের উচ্চ রক্তচাপ দেখা যায়:
(ক) আইসোলেটেড সিস্টোলিক হাইপারটেনশন (Isolated Systolic Hypertension): এই ক্ষেত্রে কেবল সিস্টোলিক রক্তচাপ (উপরের সংখ্যা) বেশি থাকে, কিন্তু ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ (নিচের সংখ্যা) স্বাভাবিক থাকে। এটি সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
(খ) হোয়াইট কোট হাইপারটেনশন (White Coat Hypertension): এই ধরনের উচ্চ রক্তচাপ ডাক্তারের চেম্বারে বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিমাপ করার সময় বেশি দেখা যায়, কিন্তু বাড়িতে বা অন্যান্য পরিবেশে স্বাভাবিক থাকে। এটি সাধারণত দুশ্চিন্তার কারণে হয়।
(গ) রেজিস্ট্যান্ট হাইপারটেনশন (Resistant Hypertension): যখন একাধিক ওষুধ ব্যবহার করেও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়, তখন এটিকে রেজিস্ট্যান্ট হাইপারটেনশন বলা হয়।
(ঘ) ম্যালিগন্যান্ট হাইপারটেনশন (Malignant Hypertension): এটি উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে গুরুতর প্রকার, যেখানে রক্তচাপ খুব দ্রুত এবং বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। এটি একটি জরুরি অবস্থা। উচ্চ রক্তচাপের ধরন এবং কারণ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা শুরু করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।