প্যানক্রিয়াটাইটিস হলো অগ্ন্যাশয়ের (Pancreas) প্রদাহ বা ফোলা। অগ্ন্যাশয় হলো পাকস্থলীর পেছনে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা হজমের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন (যেমন ইনসুলিন) তৈরি করে। সাধারণত, অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত এনজাইমগুলো ছোট অন্ত্রে (small intestine) পৌঁছানোর পর সক্রিয় হয় এবং খাবার হজমে সাহায্য করে। কিন্তু কোনো কারণে যদি এই এনজাইমগুলো অগ্ন্যাশয়ের ভেতরেই সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন তারা অগ্ন্যাশয়ের কোষগুলোকে "হজম" করতে শুরু করে, যার ফলে অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এই প্রদাহকেই প্যানক্রিয়াটাইটিস বলে। প্যানক্রিয়াটাইটিস দুই প্রকারের হতে পারে:
(ক) তীব্র প্যানক্রিয়াটাইটিস (Acute Pancreatitis): এটি হঠাৎ করে শুরু হয় এবং স্বল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়। এটি হালকা থেকে গুরুতর হতে পারে এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সাধারণত সম্পূর্ণ সেরে যায়। তবে গুরুতর ক্ষেত্রে এটি টিস্যুর ক্ষতি, রক্তপাত, সিস্ট এবং সংক্রমণের কারণ হতে পারে এবং কিডনি, ফুসফুস ও হার্টের মতো অন্যান্য অঙ্গকেও প্রভাবিত করতে পারে।
(খ) দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিস (Chronic Pancreatitis): এই ক্ষেত্রে প্রদাহ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সময়ের সাথে সাথে অগ্ন্যাশয়ের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। এর ফলে হজমের সমস্যা এবং ডায়াবেটিসও হতে পারে। সাধারণত, তীব্র প্যানক্রিয়াটাইটিসের বারবার আক্রমণের ফলে দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিস হতে পারে।
(১) পিত্তথলির পাথর (Gallstones): পিত্তনালীতে পাথর
আটকে গেলে অগ্ন্যাশয়ের নালী বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা প্রদাহের কারণ হয়।
(২) অতিরিক্ত মদ্যপান (Heavy alcohol use): এটি প্যানক্রিয়াটাইটিসের একটি প্রধান কারণ,
বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিসের ক্ষেত্রে।
(৩) অগ্ন্যাশয়ে আঘাত (Direct trauma): পেটে আঘাত লাগলে অগ্ন্যাশয়ে সমস্যা হতে পারে।
(৪) কিছু নির্দিষ্ট ঔষধ: কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে প্যানক্রিয়াটাইটিস হতে পারে।
(৫) সংক্রমণ: মাম্পস বা হামের মতো কিছু ভাইরাল সংক্রমণ প্যানক্রিয়াটাইটিসের কারণ হতে পারে।
(৬) উচ্চ মাত্রার ট্রাইগ্লিসারাইড (High triglycerides) বা ক্যালসিয়াম (High calcium):
রক্তে এই উপাদানগুলোর উচ্চ মাত্রা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
(৭) বংশগত কারণ (Genetic disorders): কিছু বংশগত রোগ, যেমন সিস্টিক ফাইব্রোসিস
(cystic fibrosis), প্যানক্রিয়াটাইটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
(৮) স্থূলতা (Obesity) ও ধূমপান (Smoking): এগুলো প্যানক্রিয়াটাইটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
(১) পেটের উপরের অংশে তীব্র ব্যথা: এই ব্যথা প্রায়শই পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং
খাওয়ার পরে আরও খারাপ হতে পারে।
(২) বমি বমি ভাব (Nausea) ও বমি (Vomiting)।
(৩) জ্বর (Fever)।
(৪) দ্রুত পালস রেট (Rapid pulse)।
(৫) পেটে ফোলাভাব বা স্পর্শ করলে কোমলতা (Tenderness)।
(৬) ওজন হ্রাস (Weight loss) (বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষেত্রে)।
(৭) তৈলাক্ত, দুর্গন্ধযুক্ত মল (Fatty, foul-smelling stools) (দীর্ঘস্থায়ী ক্ষেত্রে)। প্যানক্রিয়াটাইটিস
একটি গুরুতর রোগ এবং এর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।