+8801716-768210    info@azadhomoeohall.com

গলগণ্ড (Goiter) কী?

গলগণ্ড (Goiter) হলো থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা ফোলা। আমাদের গলার সামনের দিকে, অ্যাডাম’স অ্যাপলের (Adam's apple) ঠিক নিচে প্রজাপতি-আকৃতির যে থাইরয়েড গ্রন্থি থাকে, সেটির আকার যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয়ে যায় এবং গলাতে একটি স্পষ্ট ফোলা দেখা যায়, তখন তাকে গলগণ্ড বলা হয়। সহজভাবে বললে: গলায় যে থাইরয়েড নামক হরমোন তৈরি করার গ্রন্থিটি আছে, সেটি যখন কোনো কারণে ফুলে যায় বা বড় হয়ে যায়, তখন সেই ফোলা অবস্থাকেই গলগণ্ড বলা হয়।


গলগণ্ডের মূল কারণ:

গলগণ্ড হওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলো-

(১) আয়োডিনের অভাব (Iodine Deficiency):

থাইরয়েড হরমোন (T3 এবং T4) তৈরির জন্য আয়োডিন একটি অপরিহার্য উপাদান। যখন শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিন পায় না, তখন থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে থাকে এবং নিজে বড় হয়ে যায়, যার ফলে গলগণ্ড সৃষ্টি হয়। বিশ্বব্যাপী গলগণ্ডের ৯০% এরও বেশি ঘটনা আয়োডিনের অভাবের কারণে ঘটে।

(২) হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism - Overactive Thyroid):
যখন থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত মাত্রায় হরমোন তৈরি করে, তখন এটি বড় হয়ে যেতে পারে।
গ্রেভস ডিজিজ (Graves' Disease): এটি হাইপারথাইরয়েডিজমের একটি সাধারণ অটোইমিউন কারণ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাইরয়েডকে অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করতে উদ্দীপিত করে, যার ফলে থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যায়।

(৩) হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism - Underactive Thyroid):
যখন থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না (যেমন হাশিমোটোর থাইরয়েডাইটিস), তখন মস্তিষ্ক থেকে থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH) বেশি নিঃসৃত হয়। এই TSH থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে বড় করে তুলতে পারে।

(৪) থাইরয়েড নোডুলস (Thyroid Nodules):
থাইরয়েড গ্রন্থিতে এক বা একাধিক পিণ্ড বা লাম্প (Lump) তৈরি হতে পারে। এই পিণ্ডগুলো সৌম্য (ক্যান্সার নয়) হতে পারে, আবার বিরল ক্ষেত্রে ক্যান্সারযুক্তও হতে পারে। এই নোডুলসগুলো থাইরয়েড গ্রন্থিকে বড় করে গলগণ্ড সৃষ্টি করতে পারে।

(৫) থাইরয়েডাইটিস (Thyroiditis):
থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ। এটি ভাইরাস সংক্রমণ, অটোইমিউন কারণ (যেমন প্রসবোত্তর থাইরয়েডাইটিস) বা অন্যান্য কারণে হতে পারে। এই প্রদাহও গ্রন্থিকে ফোলাতে পারে।

(৬) কিছু ঔষধ:
কিছু নির্দিষ্ট ঔষধ, যেমন লিথিয়াম বা অ্যামিওডারোন, থাইরয়েড গ্রন্থির বৃদ্ধি ঘটাতে পারে।

(৭) গর্ভাবস্থা:
গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও কিছু নারীর অস্থায়ী গলগণ্ড হতে পারে।

গলগণ্ডের লক্ষণ:

অনেক সময় ছোট গলগণ্ডের ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে, যখন গলগণ্ড আকারে বড় হয়, তখন নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে-

(ক) ঘাড়ের গোড়ায় দৃশ্যমান ফোলা: এটি সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।
(খ) কাশি: গলাতে চাপের কারণে কাশি হতে পারে।
(গ) গলায় আঁটসাঁট বা অস্বস্তিকর অনুভূতি: বিশেষ করে পোশাকের কলার বা গয়না পরলে অস্বস্তি হতে পারে।
(ঘ) স্বর পরিবর্তন বা ফ্যাসফেসে কণ্ঠস্বর: স্বরনালীতে চাপ পড়ার কারণে হতে পারে।
(ঙ) শ্বাস নিতে অসুবিধা (Dyspnea): বড় গলগণ্ড শ্বাসনালীর উপর চাপ সৃষ্টি করলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
(চ) খাবার গিলতে অসুবিধা (Dysphagia): খাদ্যনালীর উপর চাপ পড়ার কারণে গিলতে সমস্যা হতে পারে। যদি ঘাড়ে কোনো ফোলা বা অস্বস্তি দেখা দেয়, তবে দ্রুত একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। সঠিক রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে গলগণ্ডের কারণ খুঁজে বের করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।